কেনাকাটা করতে গিয়ে আপনিও কি এসব কাজ করেন
· Prothom Alo
কেনাবেচার সাধারণ কিছু নিয়মনীতি না মানার কারণে অনেক সময় বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় বিক্রেতা ও ক্রেতাকে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কেনাবেচার সাধারণ কিছু আদবকেতা—
ঈদ সামনে রেখে বিভিন্ন শপিং মল, মার্কেট আর মেলাগুলোয় কেনাবেচার ধুম পড়েছে। এই ভিড়ে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়েই সব সময় ভালো অভিজ্ঞতা আশা করেন। তবে কেনাবেচার সাধারণ কিছু নিয়মনীতি না মানার কারণে অনেক সময় বাজে অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে হয় বিক্রেতা ও ক্রেতাকে। তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক কেনাবেচার সাধারণ কিছু আদবকেতা—
Visit cat-cross.com for more information.
কার্ট বা পণ্য দিয়ে পথ আটকানো
ব্যস্ততার মধ্যেও নিয়ম মেনে চলা জরুরি। ঈদের আগে সবাই তড়িঘড়ি করে কেনাকাটা করেন। শপিং মলগুলোতে অনেক সময় দেখা যায়, কার্ট বা ঝুড়ি মাঝ রাস্তায় রেখে গ্রাহক অন্য সেকশনে পণ্য খুঁজছেন। এতে পুরো করিডরে জ্যাম লেগে গেছে। তাই বেখেয়ালি না হয়ে করিডরের যেকোনো এক পাশে কার্ট নিয়ে চলা উচিত। তা ছাড়া আগে থেকেই কী কী কিনতে হবে, সে লিস্ট তৈরি করে নিলে এমন হুটহাট ঝামেলা এড়ানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে বিশৃঙ্খলা তৈরি হওয়ার আগেই দোকানের কর্মীদেরও সতর্ক হওয়া উচিত। বিরক্তি প্রকাশ না করে পেশাদারত্বের সঙ্গে ক্রেতার সমস্যার সমাধান করুন।
কেনাকাটা করার সময় কার্ট দিয়ে পথ আটকে রাখা ঠিক নয়কেনাবেচাকালীন খাওয়াদাওয়া
শপিং করাও কম পরিশ্রমের কাজ নয়। মলের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত ছোটাছুটি করে হালকা খিদে লেগে যেতেই পারে। তা ছাড়া রমজান মাসে তো ইফতারের একটা বিষয় থাকে। তবে খিদে পেলেই চকলেট, বাদাম, ফল বা স্ন্যাকস–জাতীয় কিছু তাক থেকে নিয়ে সেখানেই খাওয়া শুরু করা ঠিক নয়। প্রথমে আপনার পণ্যের মূল্য পরিশোধ করুন। তারপর নির্দিষ্ট জায়গায় গিয়ে খেয়ে নিন। অনেক সময় খিদে লেগে শিশু বা বয়স্ক ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়ে যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিক্রেতার পরামর্শ নিন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কিছু ব্যবস্থা করে দিতে পারবেন। আর ইফতারের সময় হলে কেনাকাটায় বিরতি দিয়ে আগে ইফতার করে তারপর আবার কেনাকাটা করতে পারেন। খাবার বা পানীয় হাতে নিয়ে ঘুরে ঘুরে পণ্য দেখা ঠিক নয়, অসাবধানতায় কোনো পোশাক বা অন্য পণ্যে খাবার পড়ে দাগ লেগে যেতে পারে।
ফ্রি পণ্য মানেই বিনা শর্তে নয়
কোনো পণ্য না কিনলে জায়গামতো রেখে দিনঅনেক সময়ই বিভিন্ন ব্র্যান্ড বা নতুন দোকানে কিছু পণ্য বা স্যাম্পল ফ্রি দিচ্ছে বলে প্রচারণা চালায়। এলে আদতে সেটা ফ্রি কি না, ভালো করে জানুন। হয়তো সেটি সম্পূর্ণ ফ্রি নয়, সেখানে কিছু শর্ত যুক্ত আছে।
যেমন কোনো নির্দিষ্ট সেবা নেওয়ার বা অন্য কোনো পণ্য ক্রয়ের বিনিময়ে ফ্রি পণ্যটি পাবেন। আসলে প্রত্যেক কর্মীর প্রতিদিন কিছু ‘সেলস টার্গেট’ থাকে। তাই ফ্রি পণ্যটি নিয়ে যাওয়া বা খাওয়ার আগে বিস্তারিত জেনে–বুঝে নিন।
বিক্রেতারা অনেক সময় ক্রেতার চাহিদা না শুনেই নিজেদের পণ্যের গুণাবলি বর্ণনা করতে থাকেন। শর্তাবলিবিষয়ক বিস্তারিত কিছু না বলেই সেবা প্রদান করা ঠিক নয়। এতে গ্রাহকেরা প্রতারিত বোধ করেন।
তাই আগের অফারটির ব্যাপারে বিস্তারিত জানানো ও সেবা গ্রহণে সম্মতি নেওয়া উচিত। অনেক সময় সেলুনে গেলে চুল কাটাতে কাটাতে ফেসিয়াল বা হেয়ার ট্রিটমেন্ট নিতে গ্রাহককে প্রলুব্ধ করেন সেবাদাতা, যা ঠিক নয়। এতে গ্রাহক বিরক্ত হন, অনাস্থা তৈরি হয়।
অতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার না করা
পরিপাটি হয়ে কেনাকাটায় যেতে সবারই ভালো লাগে। তবে মাত্রাতিরিক্ত সুগন্ধি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে একটু সচেতন হওয়া উচিত। অনেক সময় সুগন্ধি বিক্রেতারাও অনুমতি না নিয়ে স্যাম্পল দেখানো শুরু করেন। পণ্য দেখানোর আগে অবশ্যই ক্রেতার কাছ থেকে নিশ্চিত হয়ে নেবেন। কেননা, অনেকেরই অতিরিক্ত সুগন্ধযুক্ত পারফিউমে অ্যালার্জি, মাথাব্যথা ও বমিভাব দেখা দেয়।
আবার বেশি সুগন্ধির কারণে পোশাক ট্রায়াল দেওয়ার পরও সেটা নতুন কাপড়ে লেগে থাকতে পারে, যা অন্যের জন্য বিরক্তির কারণ। তবে নিজের ঘামের গন্ধও যেন পোশাকে না লাগে, সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি।
সাধ ও সাধ্যের মধ্যে ঈদের কেনাকাটা করতে রাজধানীর যেসব বাজারে যেতে পারেন, জেনে রাখুন দরদামযেখানে–সেখানে পণ্য না রাখা
কেনাকাটার পর পণ্য নিজেদের কাছে রাখুনশপিং করতে করতে একটা রেখে অন্য আরেকটা জিনিস পছন্দ হয়ে যাওয়া স্বাভাবিক ঘটনা। তাই বলে এক তাকের জিনিস অন্য তাকে বা আশপাশে কোথাও আলুথালু করে রেখে বেরিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। বিশেষত পচনশীল জিনিস যেমন দুধ, মাছ, মাংস বা সবজি। শেষ মুহূর্তে কোনো পণ্য পছন্দ না হলে বিল পরিশোধের সময় ক্যাশিয়ার বা কোনো স্টাফের কাছে ফেরত দিন, ইচ্ছেমতো ফেলে রেখে যাবেন না।
পোষা প্রাণী নিয়ে প্রবেশ
অনেক দোকান বা মলে পোষা প্রাণী নিয়ে প্রবেশে নিষেোজ্ঞা থাকে। কারণ, পোষ্যের লোম বা পায়ের ছাপ দোকানে বাকি গ্রাহকদের সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই যদি কোনো দোকানে পোষা প্রাণীদের জন্য বিশেষ সুবিধার ব্যবস্থা না থাকে, সেসব দোকানে পোষা প্রাণীসহ প্রবেশ না করাই ভালো।
বিল পরিশোধ
কেনাকাটার পর কার্ড দিয়ে বিল পরিশোধ করার সময় পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকুনকোন পণ্যের বিল কোথায় পরিশোধ করবেন, অনেক মলেই সেটা ভাগ করা থাকে। সেই নিয়মগুলো দেখে তারপর লাইনে দাঁড়ানো উচিত। একই পরিবারের অনেকে একসঙ্গে লাইনে না দাঁড়িয়ে একজন দাঁড়ান। অনেকেই ক্রেডিট কার্ড বা অ্যাপে বিল পরিশোধ করেন। সে ক্ষেত্রে পাসওয়ার্ড ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। আবার নগদে কেনাকাটা করলে বেশি খুচরা টাকা, কয়েন বা ছেঁড়া টাকায় বিল পরিশোধ না করাই ভালো। কেননা, এসব গুনতে ও হিসাব মেলাতে অনেক সময় লাগে। তাতে ভিড় থাকলে বাকি গ্রাহকেরা বিরক্ত হন। আবার কিছু অংশ টাকায়, কিছু কার্ডে না দেওয়াও ভালো। কাউন্টারে বিল দেওয়ার আগে টাকাটা গুছিয়ে নিন।
সৌজন্য
লেনদেন করার সময় সৌজন্য ও ভদ্রতা খুব জরুরি। পণ্য বাছাই করা শেষে কাউন্টারে এসে জিনিসপত্র ছুড়ে ছুড়ে ফেলবেন না। কার্ট নিজ দায়িত্বে সঠিক জায়গায় রাখুন। চাইলে সেলসম্যানদের সাহায্য নিতে পারেন। কথোপকথনে ‘ধন্যবাদ’, ‘দুঃখিত’, ‘আবার দেখা হবে’ এসব ব্যবহার করুন। কার্ট থেকে গাড়িতে মালামাল তোলা বা খারাপ আবহাওয়াতে হোম ডেলিভারি নিয়ে এলে এ কাজে সাহায্যকারীদের টিপস দিয়ে কৃতজ্ঞতা জানান।
একইভাবে ক্রেতা যখন কোনো অভিযোগ করেন, সেটাও বিনয়ের সঙ্গে খতিয়ে দেখা দরকার। অভিযোগ পেয়ে চড়াও না হয়ে সমাধানের পথ খোঁজা ভালো।
সূত্র: একাধিক বিক্রেতা ও ক্রেতার অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে লেখা
কিশোর-কিশোরীদের জন্য ঈদের কেনাকাটা করার আগে দেখে নিন বাজারে কী চলছে