একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও ২৭ বছরে যশোরে উদীচী হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি: উদীচী
· Prothom Alo

যশোরে উদীচীর সমাবেশে বোমা হামলার ২৭ বছর পার হলেও এখনো বিচার হয়নি জানিয়ে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী বলেছে, এই সময়ে একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও এ হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া বিচারহীনতার সংস্কৃতির উদাহরণ।
যশোর উদীচী হত্যাকাণ্ডের ২৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে আজ শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকায় উদীচী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে সত্যেন সেন চত্বরে এক প্রতিবাদী সাংস্কৃতিক সমাবেশ আয়োজন করা হয়। সেখানে সংগঠনটির নেতারা এ কথা বলেন।
Visit albergomalica.it for more information.
অনুষ্ঠানের শুরুতে কার্যালয়ের সামনে অস্থায়ী বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদ, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদ ও নোয়াখালী জেলা সংসদের পক্ষে ফেরদৌসী আলম। এরপর উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা সমবেত কণ্ঠে ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গান পরিবেশন করেন।
পরে উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহমুদ সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদের সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে, সহ–সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ ঘোষ, কেন্দ্রীয় সংসদের সদস্য নিবাস দে, উদীচী ঢাকা মহানগর সংসদের সভাপতি অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, সংগীত সংগঠন সমন্বয় পরিষদের সুকুমার বিশ্বাস এবং সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য অধ্যাপক এম এম আকাশ। উদীচীর ঢাকা মহানগর সংসদের সাধারণ সম্পাদক কংকন নাগ অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন।
সভাপতির বক্তব্যে মাহমুদ সেলিম বলেন, দীর্ঘ কয়েক দশকের পথচলায় বারবারই উদীচী হামলার শিকার হয়েছে। কখনো সাম্প্রদায়িক মৌলবাদী অপশক্তির হামলা, আবার কখনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত আক্রমণ সংগঠনটিকে লক্ষ্য করে চালানো হয়েছে। সম্প্রতি উদীচীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবুও উদীচীকে দমিয়ে রাখা যায়নি। কারণ, উদীচী সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামে বিশ্বাস করে এবং সাধারণ মানুষই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।
একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি উল্লেখ করে উদীচীর সাধারণ সম্পাদক অমিত রঞ্জন দে বলেন, যশোর হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে গত ২৭ বছর ধরে সোচ্চার রয়েছে উদীচী। এই সময়ে একাধিক সরকার পরিবর্তন হলেও এখনো এ হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এমন বিচারহীনতার সংস্কৃতি গ্রহণযোগ্য নয়।
অমিত রঞ্জন দে বলেন, যশোরে উদীচীর ওপর হামলার পর ছায়ানট ও সিপিবির ওপরও হামলার ঘটনা ঘটেছে, কিন্তু সেসব ঘটনার কোনো বিচার হয়নি। এসব হামলার বিচার না হওয়ার কারণেই দেশে উগ্র, মৌলবাদী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। সংস্কৃতিকর্মীদের হত্যার সঠিক বিচার নিশ্চিত করা গেলে দেশকে আবারও সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
অনুষ্ঠানে একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন শিখা সেনগুপ্তা, মির্জা আতিকুজ্জামান ও সৈয়দা রত্না। একক সংগীত পরিবেশন করেন উদীচী বাড্ডা শাখার শিল্পী অরুণিমা আহমেদ প্রথমা। এ ছাড়া উদীচী কেন্দ্রীয় সংগীত বিভাগের শিল্পীরা সম্মেলক সংগীত এবং কেন্দ্রীয় আবৃত্তি বিভাগের বাচিক শিল্পীরা দলীয় আবৃত্তি পরিবেশন করেন।
১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হল মাঠে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে শিল্পীসহ ১০ জন নিহত ও শতাধিক মানুষ আহত হন।