সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন কীভাবে হয়

· Prothom Alo

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে ১২ মার্চ। কোনো সাধারণ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত সংসদের প্রথম বৈঠকে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হয়। সে হিসেবে ১২ মার্চ অধিবেশনের শুরুতেই হবে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। এ দুটি পদে নির্বাচনের পদ্ধতি জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে নির্ধারণ করা আছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন স্পিকার শপথ গ্রহণ করে অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসেন।

১২ মার্চ বসছে সংসদ। অধিবেশনের শুরুতেই হবে নতুন সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন। সাধারণত বিদায়ী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম বৈঠক শুরু হয়। স্পিকার নির্বাচনের পর নতুন স্পিকার শপথ গ্রহণ করে অধিবেশনের সভাপতির আসনে বসেন।

দ্বাদশ সংসদের স্পিকার ছিলেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন চৌধুরী। এরপর তাঁকে আর প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে এখন কারাগারে।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশের তিন দিন পার হওয়ার পর গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়ান সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দীন। এমন পরিস্থিতিতে এবারের সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার নির্বাচনের সময়টাতে সভাপতিত্ব কে করবেন, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

স্পিকার না থাকলে সংসদ সদস্যদের শপথ কী করে হবে

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম কাজ হবে নতুন স্পিকার নির্বাচন করা। জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী, স্পিকার নির্বাচনের জন্য নির্ধারিত সময়ের অন্তত এক ঘণ্টা আগে যেকোনো সংসদ সদস্য অন্য কোনো সদস্যকে স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করার জন্য সংসদ সচিবালয়ের সচিবকে সম্বোধন করে লিখিতভাবে একটি প্রস্তাবের নোটিশ দিতে পারেন। এই নোটিশ তৃতীয় একজন সদস্য কর্তৃক সমর্থিত হতে হয়। যাঁর নাম প্রস্তাব করা হবে, তিনি নির্বাচিত হলে স্পিকার হিসেবে কাজ করতে সম্মত আছেন, এমন একটি বিবৃতিও নোটিশের সঙ্গে দিতে হয়।

তবে কোনো সদস্য স্পিকার পদে নিজের নাম প্রস্তাব বা সমর্থন করতে পারেন না। এ ছাড়া কোনো সদস্য নিজের নির্বাচনের সময় সভাপতিত্বও করতে পারেন না।

যথাযথভাবে উত্থাপিত ও সমর্থিত প্রস্তাবগুলো উত্থাপিত হওয়ার ক্রমানুসারে ভোটে দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে ‘বিভক্তি-ভোটের মাধ্যমে’ সিদ্ধান্ত হবে। কোনো প্রস্তাব গৃহীত হয়ে গেলে বাকি প্রস্তাবগুলো ভোটে দেওয়া হয় না। একই পদ্ধতিতে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়।

জাতীয় সংসদ ভবন

নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়ান রাষ্ট্রপতি। জাতীয় সংসদ ভবনে অবস্থিত রাষ্ট্রপতির কার্যালয়েই এই শপথ পড়ানো হয়। নতুন স্পিকার শপথ নেওয়ার পর তিনি সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। তাঁর সভাপতিত্বে ডেপুটি স্পিকারের নির্বাচন হতে পারে।

সাধারণত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদে একজন করে প্রার্থীর নামই প্রস্তাব করা হয়। আর এটি করে থাকে সরকারি দল। তারা যেহেতু সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ, সেহেতু তাদের প্রস্তাবিত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন।

অবশ্য এবার ক্ষমতাসীন দল বিএনপির পক্ষ থেকে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে ডেপুটি স্পিকারের পদ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে জামায়াতে ইসলামী ডেপুটি স্পিকার পদটি এখনই নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট করেনি।

১২ মার্চ সংসদ অধিবেশন ডেকেছেন রাষ্ট্রপতি

বিভক্তি-ভোট কী

সংসদে পেশ করা কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভোট হয়। এটি হতে পারে ধ্বনি-ভোট (কণ্ঠ-ভোট, সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে ভোট দেন), বৈদ্যুতিক উপায় বা বিভক্তি-ভোট। সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কণ্ঠ-ভোটই হয়ে থাকে।

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধিতে বলা আছে, অন্য কোথাও ভিন্ন বিধান না থাকলে স্পিকারের পেশ করা প্রস্তাব সম্পর্কে সদস্যদের ভোট গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রথমত ধ্বনি-ভোট গ্রহণ করা যায়। বিতর্ক শেষে স্পিকার প্রস্তাবটি ভোটে দেবেন এবং যাঁরা প্রস্তাবটির পক্ষে আছেন তাঁদের ‘হ্যাঁ’ এবং যাঁরা বিপক্ষে তাঁদের ‘না’ বলার আহ্বান জানাবেন। এরপর কোন পক্ষ জয়ী হয়েছে, স্পিকার তা ঘোষণা করেন।

সংসদে পেশ করা কোনো প্রস্তাবের বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে ভোট হয়। এটি হতে পারে ধ্বনি-ভোট (কণ্ঠ-ভোট, সংসদ সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ বলে ভোট দেন), বৈদ্যুতিক উপায় বা বিভক্তি-ভোট। সাধারণত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কণ্ঠ-ভোটই হয়ে থাকে।

কোনো প্রশ্ন সম্পর্কে স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা হলে স্পিকার প্রস্তাবটিতে বিভক্তি ভোট দেবেন। এ ক্ষেত্রে তিনি সংসদের লবিগুলো খালি করা এবং কক্ষে অনুপস্থিত সদস্যরা যাতে নিজ নিজ আসনে ফিরে আসতে পারেন, সে জন্য দুই মিনিট পর্যন্ত বিভক্তি-ভোটের ঘণ্টা বাজানোর নির্দেশ দেন। ঘণ্টা বাজা বন্ধ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সদস্যদের লবির সব প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হয়। এরপর স্পিকার দ্বিতীয়বার প্রশ্নটি পেশ করেন এবং তাঁর মতে কোন পক্ষ জয়ী হয়েছে, তা ঘোষণা করেন।

এভাবে ঘোষিত সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিবাদ করা হলে স্পিকার স্বয়ংক্রিয় ভোটযন্ত্রের মাধ্যমে বা লবিতে গিয়ে সদস্যদের ভোট রেকর্ড করার নির্দেশ দেবেন। তবে স্পিকার যদি মনে করেন যে অহেতুক বিভক্তি দাবি করা হয়েছে, তাহলে তিনি প্রস্তাবের পক্ষে থাকাদের এবং বিপক্ষে থাকাদের আলাদাভাবে উঠে দাঁড়াতে বলতে পারবেন। ভোট গণনা করে সিদ্ধান্ত দিতে পারবেন।

Read full story at source