রানআউট বিতর্ক আর বৃষ্টির পর বাংলাদেশের বড় হার

· Prothom Alo

প্রথম ম্যাচটাকে কল্পনায় ভাসিয়ে বাংলাদেশের আরেকটি একপেশে জয়ের আশায় আজ যাঁরা খেলা দেখতে বসেছিলেন, মিরপুরের দ্বিতীয় ওয়ানডে তাঁদের দেখাল একটার পর একটা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। যার শেষটা হয়েছে বাংলাদেশের ১২৮ রানের বড় হারে। পাকিস্তানের এই জয়ে সিরিজে এখন ১–১ সমতা।

বিতর্কিত এক রানআউট হয়ে পাকিস্তানের ব্যাটসম্যান সালমান আগা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন মাঠে, পাল্টা ক্ষোভ বাংলাদেশ শিবিরেও। এরপর পাকিস্তানের ২৭৪ রানের জবাবে ১৫ রানের মধ্যে ৩ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশের নড়বড়ে শুরু। বাউন্ডারি বাঁচাতে গিয়ে পাকিস্তানের হুসেইন তালাতের কাঁধে চোট পেয়ে অ্যাম্বুলেন্সে চড়ে হাসপাতালে যাওয়া এবং এর একটু পরই বজ্রবৃষ্টি শুরু হয়ে খেলাই বন্ধ। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খেলা আবার শুরু হয়। তবে এত সব ঘটনাপ্রবাহে বাংলাদেশের ৮ উইকেটে জেতা প্রথম ওয়ানডের পুরো বিপরীত ছবিই দেখা গেল আজ শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

১১৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ, ১২৮ রানে জিতল পাকিস্তান

পাকিস্তানের সহজ জয়ের এই ম্যাচ আলোচিত হয়ে থাকবে সালমানের বিতর্কিত রানআউটের কারণেই। তাঁকে ওভাবে রানআউট করে মেহেদী হাসান মিরাজ ‘অখেলোয়াড়োচিত’ আচরণ করলেন কি না, বিতর্ক সেটা নিয়ে। মিরাজ যেভাবে তাঁকে রানআউট করলেন, সেটা হয়তো কল্পনাও করতে পারেননি সালমান। আউট হয়ে গ্লাভস–হেলমেট ছুড়ে ফেলে ক্ষোভও ঝাড়লেন।

মাঠ ছাড়ার সময় ক্ষোভ প্রকাশ করেন সালমান আগা

ক্রিকেটের আইন অবশ্য মিরাজের পক্ষেই ছিল। ব্যাটসম্যানের ব্যাট ছুঁয়ে আসা বল ‘ডেড’ না হওয়া পর্যন্ত ধরতেই পারেন না নন–স্ট্রাইকে থাকা ব্যাটসম্যান। মিরাজের আগে সালমান বল ধরে ফেললেও ফিল্ডিংয়ে বাধা দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ তাঁর বিরুদ্ধে আউটের আবেদন করতে পারত। হ্যাঁ, ওই সময় যদি কোনো কারণে চোট পেয়ে সালমান উইকেটে না পৌঁছাতে পারতেন, তাহলে হয়তো তাঁকে রানআউট না করার ‘মহানুভবতা’ দেখাতে পারতেন মিরাজ।

সালমানের রানআউট ঘিরে উত্তেজনা: মাঠে কী হয়েছিল

পাকিস্তানের ইনিংসে সালমানের রানআউটটা হয়ে দাঁড়িয়েছিল বড় টার্নিং পয়েন্ট। টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ক্যারিয়ারে মাত্রই দ্বিতীয় ওয়ানডে খেলতে নামা দুই ওপেনার সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত মিলে ১৩ ওভারে করে ফেলেন ১০৩ রান। স্পোর্টিং উইকেটে শুরু থেকেই মারকাটারি খেলা দুই ওপেনারের মধ্যে বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন ৪৬ বলে ৭৫ রান করা সাদাকাত। দলের ১০৩ রানে মিরাজের বলে তিনি কট বিহাইন্ড হয়ে যাওয়ার পর ২০তম ওভারের মধ্যে দলের ১২২ রানের মধ্যে নেই আরেক ওপেনার সাহিবজাদা আর তিনে নামা শামিল হোসেনও।

দারুণ শটে ছক্কা সাদাকাতের

চতুর্থ উইকেটে ৩৯তম ওভার পর্যন্ত একসঙ্গে থেকে ১০৯ রান করে ফেলেন সালমান আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। দুই ছক্কা আর সাত বাউন্ডারিতে ৬২ বলে ৬৪ করা সালমানই নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন জুটিটাতে এবং সেটা ভাঙেও তাঁর ওই বিতর্কিত রানআউটে। এক বল পর ওই ওভারেই ডিপ মিড উইকেটে রিশাদের ক্যাচ হয়ে যান রিজওয়ান।

হঠাৎ আসা বিপর্যয়টা ঠেকাতে পারেননি পরের ব্যাটসম্যানরা। ৩ উইকেটে ২৩১ রান থেকে ৪৭.৩ ওভারে পাকিস্তান অলআউট ২৭৪ রানে। ৪৩ রানে পড়েছে শেষ ৭ উইকেট! যেন সালমানের ওই আউটই নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা পাকিস্তান দলকে। ৫৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে রিশাদ হোসেনই মূলত মুড়ে দেন পাকিস্তানের শেষটা। ৩৪ রানে ২ উইকেট মিরাজের।

ফিরছেন শামিল, হাসি নাহিদের মুখে

কিন্তু পাকিস্তানের যেখানে শেষ, সেখানেই যেন শুরু বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের! কথাটা উইকেট হারানোর প্রসঙ্গেই বলা। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে শাহীন আফ্রিদিকে ফ্লিক করতে গিয়ে আগের ম্যাচে ঝোড়ো ফিফটি করা ওপেনার তানজিদ হাসান ক্যাচ দেন মোহাম্মদ ওয়াসিমের হাতে। দলের ১৫ রানের মধ্যে পরের দুই ওভারে আউট আরেক ওপেনার সাইফ হাসান আর তিনে নামা নাজমুল হোসেনও। এরপরই আসে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজলি আর শিলাবৃষ্টিজনিত লম্বা বিরতি।

প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর খেলা আবার শুরু হলে বাংলাদেশের নতুন লক্ষ্য দাঁড়ায় ৩২ ওভারে ২৪৩ রান। ৩ উইকেটে ২৭ রান নিয়ে নতুন শুরুটা সহজ ছিল না, সেটি বরং শেষ পর্যন্ত অসম্ভবই প্রমাণিত হয়েছে উদ্দেশ্যহীন ব্যাটিংয়ে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে। পাকিস্তানের বোলাররাও দারুণ বোলিং করেছেন আবার মাঠে ফিরে। বৃষ্টির আগেই জুটি বাঁধা লিটন দাস আর তাওহিদ হৃদয়ের ৫৮ রানের চতুর্থ উইকেট ভেঙেছে দলের ৭৩ রানে। এই দুজন, বিশেষ করে ৩৩ বলে ৪১ করা লিটনকে বাদ দিলে বাকিদের ব্যাটে লড়াই করার ক্ষুধাটাই ছিল অনুপস্থিত। তাতে পরিণতি যা হওয়ার তা–ই হয়েছে। ৪১ রানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ২৩.৩ ওভারেই ১১৪ রানে অলআউট বাংলাদেশ।

১২ রান করেছেন সাইফ

মজার ব্যাপার হলো, প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানও অলআউট হয়েছিল ঠিক ১১৪ রানেই। কাল বাংলাদেশকে সেই তিক্ত স্বাদ ফিরিয়ে দিতে বড় ভূমিকা ছিল সাদাকাতেরই। ব্যাট হাতে ৭৫ রানের পর আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে প্রথম বোলিংয়ের সুযোগ পেয়েও সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন, ৫ ওভারে ২৩ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। ২৬ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন সিরিজে কালই প্রথম খেলা হারিস রউফও।

Read full story at source