যাদের কাছে ঈদ মানেই নতুন জামা
· Prothom Alo
চৈত্র মাসের গরমেও শিশুর ঈদটি যেন স্বস্তির হয়, তাই নির্বাচন করতে হবে আরামদায়ক পোশাক। ঈদ উপলক্ষে এ বছর শিশুদের পোশাকের চলতি ধারার খোঁজ দিচ্ছেন হুমায়রা মাহজাবিন
Visit asg-reflektory.pl for more information.
ঈদে বরাবরই শিশুদের পোশাক হয় সবচেয়ে রঙিন। এবারও সেই ধারা বজায় আছে। শিশুদের পোশাক নিয়ে কাজ করা প্রতিটি ফ্যাশন হাউসেই যতটা সম্ভব বর্ণিল রঙে রাঙানোর চেষ্টা চোখে পড়ছে।
কন্যাশিশুদের পোশাক যেন বেশি জমকালো। শিশুদের জন্য পার্টি ফ্রক ছাড়াও আছে হালকা রঙের আরামদায়ক ফ্রক, সালোয়ার-কামিজ, চোলি-ঘাগরা, স্কার্ট-টপ সেট। পাশাপাশি আছে লেহেঙ্গা, কুর্তা, কাফতান, কটন টু–পিস, গাউন ইত্যাদি। স্কিন প্রিন্ট ও ডিজিটাল প্রিন্টের জামার মধ্যে এমব্রয়ডারি ও হালকা সুতার নকশা পোশাকগুলোকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।
শিশুদের কো-অর্ড সেটলা রিভের বসুন্ধরা শাখার ব্যবস্থাপক মো. নাদির জানান, এবারের ঈদে তাঁদের নতুন সংযোজন মোজাইক প্রিন্ট। কয়েক রকম রঙের মিশ্রণই এই প্রিন্টের বৈশিষ্ট্য। কন্যাশিশুদের পোশাকে এই মোজাইক প্রিন্টের পাশাপাশি আছে প্রকৃতির ছোঁয়া। মানে ফুল, লতাপাতা, গাছের মেলবন্ধন।
পাকিস্তানি ধাঁচে তৈরি হচ্ছে টু–পিস বা থ্রি–পিসদেশে এবার পাকিস্তানি নকশার অনুপ্রেরণায় তৈরি পোশাকের চল লক্ষ করা যাচ্ছে। শিশুদের পোশাকেও সেই হাওয়া এসে লেগেছে। পাকিস্তানি ধাঁচে তৈরি হচ্ছে টু–পিস বা থ্রি–পিস। যেমন স্ট্রেইট কাট কুর্তা, হাতায় সূক্ষ্ম কাজ, জরির সুতায় এমব্রয়ডারির কাজ ইত্যাদি। অনুপ্রেরণা নিয়ে তৈরি হলেও শিশুদের উপযোগী করতে নকশা ও কাপড়ে আরামকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
কেনাকাটা করতে গিয়ে আপনিও কি এসব কাজ করেনছেলেশিশুদের পোশাক
ছেলেশিশুদের ঈদের পোশাকের তালিকায় শুরুতেই আসে পাঞ্জাবির নাম। ফ্যাশন হাউসগুলো নিত্যনতুন নকশার মাধ্যমে পাঞ্জাবিগুলোকে আকর্ষণীয় করে তোলে। পাঞ্জাবির হাতায় ও কলারের এমব্রয়ডারির কাজ থাকলে দেখতে ভালো লাগে। আবার বোতামের সামান্য পরিবর্তনেও আসে নতুনত্ব। শিশুদের পাঞ্জাবিতে এবার সুতি কাপড় বেশি দেখা যাচ্ছে। আর ঢিলেঢালা ভাব রাখা হয়েছে। পাঞ্জাবির পাশাপাশি আছে কাবলি সেট, জুব্বার মতো পোশাকও।
শিশুদের পাঞ্জাবিতে এবার সুতি কাপড় বেশি দেখা যাচ্ছেএর বাইরে মিলবে শিশুদের শার্ট, টি-শার্ট, পোলো শার্ট, কাতুয়া, শার্ট-প্যান্টের সেট। ট্রেন্ড হিসেবে লুজ ফিটেড শার্ট বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে। এ ছাড়া ভিন্ন কাটের প্যান্ট, হাফ প্যান্ট, থ্রি–কোয়ার্টার প্যান্টের চাহিদাও বেশ ভালো বলে জানালেন বিক্রেতারা। শিশু পরিবহন ব্র্যান্ডের ছেলেদের পাঞ্জাবি ও জুব্বাতে ক্যালিগ্রাফির নকশা করা হয়েছে।
ছেলেদের শার্ট-প্যান্টের সেটনবজাতকের পোশাক
ঈদের আনন্দ বুঝে উঠতে না পারলেও নবজাতকদের জন্য হাউসগুলোতে থাকে বিশেষ সংগ্রহ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, চার সপ্তাহ বয়সী শিশুকে ধরা হয় নবজাতক। তবে ফ্যাশন হাউসের নবজাতক সেকশন আরেকটু বিস্তৃত। ০-১৮ মাসের শিশুদের পোশাকগুলোকে রাখা হয় এই সেকশনে। এই বয়সের শিশুদের পোশাকের তালিকায় সবার ওপরে থাকে সুতি কাপড়ের নিমা, পেছন দিকে ফাড়া ফ্রক, ছেলেশিশুদের জন্য পাঞ্জাবি, টিপ বোতামের শার্ট ও টি-শার্ট। নবজাতক শিশুদের ত্বক অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় পোশাকে যতই বৈচিত্র্য থাকুক না কেন, কাপড় হিসেবে সুতি আর নমনীয়তাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়।
সিনেমায় ববিতার বউয়ের সাজে একালের কনের সাজ, মিলিয়ে দেখুনথিমভিত্তিক পোশাক
শিশুদের পোশাকে আছে মজার কাটশিশু পরিবহনের ঈদসংগ্রহে আছে সিবলিংস সেট। এখানে ভাই-বোনের জন্য রয়েছে দেখতে একই রকমের ফ্রক, কো-অর্ড সেট। কো-অর্ড সেটগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যে ছেলে-মেয়ে উভয়েই পরতে পারবে। বসন্তের কথা মাথায় রেখে পোশাকগুলোতে স্থান পেয়েছে ফুল, পাখি ও প্রকৃতির বিভিন্ন উপাদান। শিশু পরিবহনের ডিজাইনার ফাইকা যাবিন সিদ্দিকা বলেন, ‘আমরা সব সময় ট্রেন্ড নয়, শিশুর কমফোর্টকেই বেশি প্রাধান্য দিই। এবারের ঈদে যেমন অন্যতম ফ্যাশন ট্রেন্ড ফারসি সালোয়ার। এই সালোয়ার লম্বায় বেশ বড় এবং পায়ের নিচের দিকে ভারী সেলাই থাকে। শিশু পরিবহন সচেতনভাবেই এই ট্রেন্ড বাদ দিয়েছে। কারণ, এ ধরনের পোশাক শিশুদের উপযোগী নয়।’
গরমে আরামদায়ক পোশাকসারা লাইফস্টাইলের সহকারী ব্যবস্থাপক সামিহা ইসলাম জানালেন, সারাতে কন্যাশিশুদের ওয়েস্টার্ন পোশাকের থিম সামার ক্রাশ। এখানে গরমের কথা চিন্তা করে পোশাকে নকশা করা হয়েছে এবং ছেলেশিশুদের ওয়েস্টার্ন পোশাকের থিম ইনটু দ্য আননোন। এ ছাড়া পরিবারের বড়দের সঙ্গে মিলিয়ে ছোটদের পোশাক করেছে সারা। এই আয়োজনে সন্তানের সঙ্গে বাবা-মায়ের একই রকম পোশাকের সেট রয়েছে। যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘মিনি মি’; অর্থাৎ বাবার সঙ্গে ছেলের পাঞ্জাবি বা মায়ের সঙ্গে মেয়ের পোশাকের ম্যাচিং। এ ছাড়া পরিবারের সবার একই রকম পোশাক বা ফ্যামিলি সেটের খোঁজও এখানে মিলবে।
শৈশব ব্র্যান্ডে এবার ফিউশন পোশাককে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। মেয়েদের টু–পিস সেটে আছে ঐতিহ্যের সঙ্গে পশ্চিমা কাটের মিশ্রণ। গরমের কথা মাথায় রেখে বেশির ভাগ ফ্যাশন হাউস এবার শিশুদের পোশাকগুলোতে জারদৌসি কাজের বদলে এমব্রয়ডারি কিংবা হালকা সুতার নকশা করেছে।
হাঁটার পোশাকে থাকুক আরামরঙিন ট্রেন্ড
ঈদে বরাবরই শিশুদের পোশাক হয় সবচেয়ে রঙিনঈদের আনন্দের সঙ্গে ঘুরেফিরে বারবার এবার আসছে গরমের কথা। তাই শিশুদের পোশাকের রং নির্বাচনের ক্ষেত্রেও গরমকে মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে হালকা রঙের পোশাক। হালকা রং গরম কমাতে সাহায্য করে। তাই শিশুদের জন্য আরামদায়ক কাপড়ের পাশাপাশি হালকা রঙের ওপরই বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। যে কারণে প্যাস্টেল শেডের পাশাপাশি আছে সামারের ফ্রেশ রঙের (আকাশি, সাদাটে গোলাপি, মাখন হলদে, ল্যাভেন্ডার) আধিক্য। তবে রাতের অনুষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে অনেকে গাঢ় রঙের পোশাক পছন্দ করে থাকেন। এমন সংগ্রহও চোখে পড়ল বেশ কিছু দোকানে।
ঈদের দিনে শিশুরাই সবচেয়ে বেশি আনন্দ করে। নতুন পোশাকে ঝলমল করতে থাকে খুদে সদস্যরা। গরমে ভুল পোশাক নির্বাচনে শিশুর আনন্দে যেন ভাটা না পড়ে, সেদিকে নজর রাখাই এখন প্রধান দায়িত্ব।
ঈদে শিশুদের জন্য কী পোশাক এল