সিডনিতে মাঠের বাইরে ফুটবলারদের একটি দিন

· Prothom Alo

৩ মার্চ চীনের বিপক্ষে লড়াকু ফুটবল উপহার দেওয়ায় পরদিন বাংলাদেশের মেয়েদেরও স্মরণীয় একটা দুপুর উপহার দিলেন কোচ পিটার বাটলার।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

৪ মার্চের সেই তপ্ত দুপুরে সিডনি অপেরা হাউস আর হারবার ব্রিজের সামনে যখন ঋতুপর্ণা–আফঈদারা এসে দাঁড়ালেন, মুহূর্তেই তাঁরা ভুলে গেলেন মাঠের ক্লান্তি। রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনের সবুজ গালিচা আর সাগরের নীল জল যেন ফুটবলার থেকে তাঁদের বানিয়ে দিল সদ্য কৈশোর পেরোনো তরুণী। লাল-সবুজ জার্সি ছেড়ে এদিন তাই মিলিরা সাজলেন নিজেদের পছন্দের পোশাকে। কেউ আইসক্রিম হাতে খুনসুটিতে ব্যস্ত, কেউ ব্যস্ত মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণে।

আইসক্রিম হাতে মুনকি আক্তার, স্বপ্না রানী ও তহুরা খাতুন

প্রথমবার এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে খেলার এই সফরে বাংলাদেশের উজ্জ্বলতম নক্ষত্র ছিলেন গোলকিপার মিলি আক্তার। উচ্চতার কারণে সুযোগ পেয়েই তিনটি ম্যাচে গোলপোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে যিনি বুক চিতিয়ে লড়েছেন, সিডনির রাস্তায় হাঁটার সময় তিনিই আবার সহজ-সরল এক সাধারণ তরুণী বনে গেলেন।

অস্ট্রেলিয়ার অপেরা হাউসের সামনে বাংলাদশের অধিনায়ক আফঈদা খন্দকার

মিলির চোখে অস্ট্রেলিয়া ছিল এক বিস্ময়পুরী, ‘ওখানকার রাস্তাঘাট, খেলার মাঠ...সবকিছুর ব্যবস্থা খুব চমৎকার। আমাদের দেশে খেলার মাঠের খুব অভাব, কিন্তু অস্ট্রেলিয়ায় মোড়ে মোড়ে মাঠ। বিকেলে কখনো কখনো যখন হাঁটতে বের হতাম, মনটা ভরে যেত চারপাশে অনিন্দ্য পরিবেশ দেখে।’

ক্যামেরায় পোজ দিচ্ছেন ফুটবলার শিউলি আজিম

সিডনির ট্রাফিকহীন শান্ত রাস্তাগুলো মিলির মনে এক গভীর ছাপ ফেলেছে। কোনো ঝামেলা নেই, নেই কোনো কোলাহল। তাঁর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিল সিডনি অপেরা হাউস দেখার। আসার আগে ফোনের ছোট পর্দায় যা দেখেছেন, সরাসরি দেখার পর তা যেন রূপকথাকেও হার মানিয়েছে। মিলি উচ্ছ্বসিত হয়ে বললেন, ‘অপেরা হাউসটা সরাসরি দেখার অনুভূতিই অন্য রকম। অনন্য, অসাধারণ। আমরা সবাই মিলে ওখানে ছবি তুলেছি, খুব আনন্দ করেছি।’

মেহজাবীন আবার যেখানে ঘুরতে যেতে চানইচ্ছেমতো আনন্দে কেটেছে ফুটবলারদের একটি দিন

তবে ঘোরাঘুরির সুযোগ যে খুব বেশি ছিল, তা নয়। প্রতিদিন অনুশীলন, জিমের কঠোর পরিশ্রম আর কঠোর ডায়েটের মধ্যে একদিন বেড়াতে যাওয়া ছিল তাঁদের কাছে পরম পাওয়া। ফিটনেস কোচের নির্দেশে কাঁচা সবজি আর ভেজিটেবল খাওয়ার সেই দিনগুলোর কথা মনে করে মিলি মৃদু হাসেন, ‘ওসব খাবারে আমাদের অভ্যাস ছিল না, তবু মানিয়ে নিয়েছি।’

সহকারি কোচের সঙ্গে (বাঁ থেকে) মারিয়া মান্দা, রূপনা চাকমা, আনিকা রানিয়া। পেছনে দাঁড়িয়ে শিউলি আজিম

অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েও পেশাদার ফুটবলের ছকে বাঁধা জীবন। ঘড়ি ধরে অনুশীলন, জিম আর ভিডিও সেশন—এই ছিল তাঁদের প্রাত্যহিক রুটিন। ৪ মার্চ বেড়াতে যাওয়ার আগপর্যন্ত ভ্যালেনটাইন স্পোর্টস পার্ক থেকে শহরের ব্যস্ততম প্যারামাটা টিম হোটেল, বাস থেকে দেখা সিডনির সাজানো রাস্তাঘাটই ছিল তাঁদের অস্ট্রেলিয়া দেখা।

সিডনিতে পরাক্রমশালী চীন ও উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে দুটি ম্যাচ শেষ করে দলটি যখন ৭ মার্চ পার্থে পৌঁছাল, তখনো তাঁদের চোখেমুখে আত্মবিশ্বাস। উজবেকদের বিপক্ষে জয় না আসায় আর সিডনিতে ফেরা হয়নি। ১০ মার্চ মধ্যরাতে ফিরতে হয়েছে দেশে।

তিব্বত ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন? আপনার জন্য ১১ তথ্য

Read full story at source