অতিরিক্ত ‘ভালো’ হওয়া আপনাকে ফেলতে পারে শারীরিক ঝুঁকিতে
· Prothom Alo

সবাইকে খুশি রাখতে গিয়ে নিজের অনুভূতি চাপা দেওয়া অনেকের অভ্যাস। কিন্তু এই ‘অতিরিক্ত ভালো থাকা’ দীর্ঘমেয়াদে মানসিক চাপ বাড়িয়ে শরীরেও তৈরি করতে পারে নানা জটিল সমস্যা।
Visit sportbet.reviews for more information.
আমাদের সমাজে ‘ভালো মানুষ’ হওয়া একধরনের প্রশংসার বিষয়। কিন্তু যখন এই ‘ভালো থাকা’ বা ‘সবাইকে খুশি রাখা’র প্রবণতা নিজের অনুভূতি চেপে রাখার অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন তা শুধু মানসিক নয়, শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে, বলছে গবেষণা।
মানুষকে খুশি রাখার চাপে নিজের অনুভূতি হারানোর বিষয়টা হয়ে থাকে অনেকের ক্ষেত্রে। অনেকেই ছোটবেলা থেকে শিখে আসেন—রাগ দেখানো যাবে না, না বলতে নেই, অন্যকে কষ্ট দেওয়া যাবে না। ফলে তাঁরা নিজের ভেতরের রাগ, হতাশা বা কষ্ট চেপে রেখে সব সময় হাসিমুখে সব মেনে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এই অভ্যাস ধীরে ধীরে ‘people-pleasing—পিপল প্লেসারিং’ বা সবাইকে খুশি রাখার মানসিকতায় পরিণত হয়। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, আমাদের শরীর মনের এই দমন করা অনুভূতিগুলো চুপচাপ মেনে নেয় না।
এর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবে শরীরে কী ঘটে
যখন আপনি নিজের প্রকৃত অনুভূতি লুকিয়ে রাখেন, তখন শরীর এটাকে একধরনের চাপ বা স্ট্রেস হিসেবে ধরে। এ অবস্থায় শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সিস্টেম হাইপোথ্যালামাস–পিটুইটারি–অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি Hypothalamic–Pituitary–Adrenal axis (HPA axis) নিয়মিত সক্রিয় থাকে। এই সিস্টেম থেকে ক্রমাগত নিঃসৃত হয় কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন। স্বল্প সময়ের জন্য এই হরমোনগুলো উপকারী হলেও, দীর্ঘদিন ধরে বেশি পরিমাণে থাকলে তা শরীরের ক্ষতি করতে শুরু করে, যার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ভেতরে ভেতরে ক্ষয় করে এবং অতিরিক্ত স্ট্রেস হরমোন নিঃসৃত হয়। ফলে ইমিউন সিস্টেম দুর্বল হয়ে পড়ে, শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বাড়ে, যে কারণে কোষ ও টিস্যুর ক্ষতি শুরু হয়। এই দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবগুলো একসময় গুরুতর রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে অটোইমিউন রোগ।
অটোইমিউন রোগের ঝুঁকি বাড়ার কারণে শরীর নিজেরই কোষের বিরুদ্ধে আক্রমণ শুরু করে। এর ফলে মাল্টিপল স্ক্লেরোসিস, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস, লুপাস ও থাইরয়েডজনিত নানা সমস্যা দেখা দেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ও আবেগ দমন এ ধরনের রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। সে ক্ষেত্রে নারীরা থাকে বেশি ঝুঁকিতে।
পরিসংখ্যান বলছে, অটোইমিউন রোগে আক্রান্তদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী। এর পেছনে জৈবিক কারণের পাশাপাশি সামাজিক কারণও বড় ভূমিকা রাখে। নারীদের ছোটবেলা থেকেই শেখানো হয় সহ্য করতে হবে, যত্ন নিতে হবে, নিজের কথা পরে ভাবতে হবে। ফলে তারা প্রায়ই নিজের অনুভূতি প্রকাশ না করে চেপে রাখে, যা দীর্ঘ মেয়াদে শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে।
সমাধান কী
ভালো মানুষ হওয়া খারাপ নয়; কিন্তু নিজের ক্ষতির বিনিময়ে নয়। এ ক্ষেত্রে কিছু বিষয় মনে রাখা জরুরি। সেগুলো হলো—
* নিজের অনুভূতিকে স্বীকার করুন
* প্রয়োজনে ‘না’ বলতে শিখুন
* রাগ বা কষ্ট স্বাস্থ্যকরভাবে প্রকাশ করুন
* নিয়মিত বিশ্রাম ও মানসিক যত্ন নিন
* প্রয়োজনে কাউন্সেলিং বা থেরাপির সাহায্য নিন
অতিরিক্ত ভালো হওয়া যদি নিজের অস্তিত্বকে চেপে রাখার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তা আর গুণ নয় বরং সেটা নিজের ক্ষতি করা। আমাদের শরীর ও মন একসঙ্গে কাজ করে। তাই সুস্থ থাকতে হলে শুধু বাইরে নয়, ভেতরেও সত্যিকারের স্বস্তি থাকা জরুরি।
সূত্র: ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব হেলথ ও বডি সিক্রেটস
ছবি: এআই