রাজবাড়ীতে তেলের জন্য মধ্যরাত থেকে লাইনে অপেক্ষা, তবু অনিশ্চয়তা
· Prothom Alo

রাজবাড়ীতে জ্বালানি তেলের সংকটে অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ আছে কয়েক দিন ধরে। যে এক-দুইটি পাম্প খোলা থাকছে, সেখানে গভীর রাত থেকেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেককে তেল না পেয়ে ফিরতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও মারামারির ঘটনাও ঘটছে।
আজ সোমবার ভোর ৫টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত জেলার পাঁচটি পাম্প ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
Visit freshyourfeel.org for more information.
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, রাজবাড়ীর ১০টি পাম্পে তেল সরবরাহ করা হলেও নিয়মিত খোলা থাকছে না সব কটি। কোনো পাম্প একদিন খোলা থাকলে পরদিন বন্ধ থাকছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্ধারিত সময়ে ম্যাজিস্ট্রেটের তত্ত্বাবধানে তেল সরবরাহ করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে গতকাল রোববার রাতে জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার জেলার পাঁচটি উপজেলার ১০টি পাম্পে তদারকির জন্য ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দিয়েছেন।
তেল না থাকায় পাম্পের সামনে এভাবে বাঁশ ও রশি দিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ৬টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার শ্রীপুর পলাশ ফিলিং স্টেশনেভোরে পাম্পে পাম্পে একই চিত্র
আজ ভোর ৫টার দিকে সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকায় ‘সপ্তবর্ণা ফিলিং স্টেশন’ বন্ধ পাওয়া যায়। পাশের ‘করিম ফিলিং স্টেশন’-এ ফজরের আজানের আগে থেকেই মোটরসাইকেলের সারি দেখা গেছে। বাঁশের বেড়া দিয়ে লাইন নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। তবে দীর্ঘ লাইনের কারণে পাম্প কর্তৃপক্ষ সকাল ৯টার আগে তেল না দেওয়ার ঘোষণা দেয়।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা পাংশার ছাগল ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘তিন দিন ঢাকায় থাকার পর এলাকায় ফিরছি। পাম্প খোলা দেখে বোতল নিয়ে অনেকক্ষণ অপেক্ষা করে ২০০ টাকার তেল চাইলাম, দিল না।’
শরীয়তপুরে তেল না পেয়ে পাম্প ঘেরাও করে বিক্ষোভ কৃষকদেরসকাল ৬টার দিকে শ্রীপুর এলাকার ‘রাজবাড়ী ফিলিং স্টেশন’ ও ‘পলাশ ফিলিং স্টেশন’—দুটিই বন্ধ পাওয়া যায়। পাম্পের সামনে লোহার ব্যারিকেড বসানো ছিল।
সেখানে গিয়ে দুর্ভোগে পড়েন সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মী মো. রাসেল। তিনি বলেন, ‘প্রায় ১০-১১ কিলোমিটার দূর থেকে তেল নিতে এসেছি। অফিসে যেতে হবে। কিন্তু এসে দেখি পাম্প বন্ধ। এখন মোটরসাইকেল ধাক্কায় বাড়ি ফিরতে হবে।’
একই এলাকায় বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর থেকে আসা কামরুল ইসলাম বলেন, ‘গত শনিবার রাতেও তিন ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল পাইনি। কালোবাজারে তেল পাওয়া যাচ্ছে, এক লিটার ২৫০ টাকায় কিনতে দেখেছি।’
‘রাত একটা থেকে লাইনে’
আজ সকাল ৭টার দিকে নতুন বাজার এলাকার ‘কাজী ফিলিং স্টেশন’-এ গিয়ে দেখা যায়, রাজবাড়ী-কুষ্টিয়া আঞ্চলিক মহাসড়কজুড়ে কয়েক শ মোটরসাইকেলের দীর্ঘ সারি। লাইনে আগে যাওয়াকে কেন্দ্র করে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনাও ঘটে।
সদর উপজেলার রামকান্তপুরের বাইক শেয়ার রাইডার আবু বক্কার বলেন, ‘গতকাল রাত একটা থেকে লাইনে আছি। তেল না পাওয়ায় চার দিন ধরে কোনো ট্রিপ মারতে পারছি না। একদিন পথে তেল শেষ হয়ে গেলে ৩৫০ টাকা দিয়ে এক লিটার তেল কিনতে হয়েছে। এখন শুনছি ম্যাজিস্ট্রেট আসার পর তেল দেওয়া হবে।’
ফিলিং স্টেশনগুলোতে তেল না পেয়ে ক্রেতাদের ক্ষোভ, অতিরিক্ত চাপকে দায়ী করছেন স্টেশনের লোকজনপাম্পটির নজেলম্যান গোবিন্দ শিকদার বলেন, ‘আগের চেয়ে এখন দ্বিগুণের বেশি তেল বিক্রি হচ্ছে। গতকাল রাতে ৩ হাজার লিটার পেট্রল ও সাড়ে ৪ হাজার লিটার অকটেন এসেছে, একদিনেই শেষ হয়ে যাবে। ম্যাজিস্ট্রেট এলে সরবরাহ শুরু করব।’
জানতে চাইলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত এনডিসি হাফিজুর রহমান বলেন, জ্বালানি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তদারকির জন্য প্রতিটি পাম্পে ‘ট্যাগ অফিসার’ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এতে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।